মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট
মুজিবনগরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুরুতর আহত-৩মেহেরপুরে মরহুম আবুল বয়াতির স্মরণে ঐতিহ্যবাহী জারিগান অনুষ্ঠিতসাংবাদিককে হুমকির প্রতিবাদে মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে জরুরী সভাগাংনী সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টায় বিএসএফের ব্যর্থমেহেরপুর পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমারকে বিদায় সংবর্ধনামেহেরপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের পা ভাঙার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধেমেহেরপুরে হেরোইন সেবনের দায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিলমুজিবনগরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুরুতর আহত-৩মেহেরপুরে মরহুম আবুল বয়াতির স্মরণে ঐতিহ্যবাহী জারিগান অনুষ্ঠিতসাংবাদিককে হুমকির প্রতিবাদে মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে জরুরী সভাগাংনী সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টায় বিএসএফের ব্যর্থমেহেরপুর পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমারকে বিদায় সংবর্ধনামেহেরপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের পা ভাঙার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধেমেহেরপুরে হেরোইন সেবনের দায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল
Uncategorized

মেহেরপুরে মরহুম আবুল বয়াতির স্মরণে ঐতিহ্যবাহী জারিগান অনুষ্ঠিত

মেহেরপুর প্রতিনিধি।। গ্রামীণ সমাজে বিনোদন, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং ইতিহাস সচেতনতা তৈরিতে লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম জারিগান। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে মরহুম আবুল কাশেম বয়াতির স্মরণে এক বিশেষ জারিগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বয়াতিরা তাদের সুরেলা কন্ঠে কারবালার শোকগাথা ও ঐতিহ্যবাহী ধুয়া জারি পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে কারবালার ক্ষত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জারি গান পরিবেশন করেন বয়াতি সেলিম রেজা। তিনি বলেন, “কারবালার মর্মান্তিক যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের শাহাদাত বরণের বিয়োগান্তক কাহিনীকে কেন্দ্র করে এই গানের উৎপত্তি। তবে বর্তমানে কারবালার কাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা, ধর্মীয় কাহিনী ও সামাজিক সচেতনতামূলক গল্পও জারি গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। আমার গুরু আবুল কাশেমের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে এই গান শিখেছি।”অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে আগত বয়াতি আনারুল হাজিরার বনবাস নিয়ে গান উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “সাধারণত দেহতত্ত্ব, আধ্যাত্মিকতা, প্রেম-বিচ্ছেদ, সামাজিক চিত্র এবং প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে এই গান পরিবেশন করা হয়। আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই ধুয়া জারি গান পরিবেশন করছি। বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও এটি বেশ জনপ্রিয়।”অনুষ্ঠানের আয়োজক সাগর বয়াতি জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তার বাবা আবুল কাশেম বয়াতির মৃত্যুর পর থেকে তিনি নিয়মিত এলাকা ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বয়াতিদের এনে এ ধরনের অনুষ্ঠান করে আসছেন। তিনি আরও জানান, জারিগান সাধারণত দলগতভাবে গাওয়া হয়। এতে একজন প্রধান বয়াতি থাকেন এবং তার সাথে একদল ‘জারিয়াল’ বা খেলোয়াড় থাকেন, যারা গানের তালে তালে নেচে নেচে দোহার ধরেন। অনেক সময় দুই দলের মধ্যে ‘পাল্লা’ বা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।এদিনের আসরে আশরাফপুর গ্রামের সেলিম বয়াতির সাথে দোহার ও বাদ্যযন্ত্রে অংশ নেন আনিস বয়াতি, ইজারুল বয়াতি, বুদু, জামাল ফকির, চান্দু, কাবুর এবং সামাদ ঢোলী। অপরদিকে কুষ্টিয়া দৌলতপুরের আনারুল বয়াতির সাথে ছিলেন হাসেম উদ্দিন, লাড়ু, রফিকুল ঢুলী ও জিলাহক।বয়াতিরদের দাবি, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী জারি গান ধরে রাখতে আমরা সরকার এর সহযোগিতা কামনা করছি। প্রতিটি জেলায় যদি যারা জারি গান পরিবেশন করে তাদের নিয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করায় তাহলে জারি গান সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম কিছু জানতে পারবে।ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফারসি শব্দ ‘জারি’ অর্থ শোক, আর্তনাদ বা বিলাপ। বাংলায় শিয়া সংস্কৃতির প্রভাবে মূলত ১৭শ শতক থেকে জারি গানের সূত্রপাত ঘটে। ১৬৪৫ সালে মুহম্মদ খানের লেখা ‘মাকতুল হুসেন’ (হুসেনের শাহাদাত) মহাকাব্যের পথ ধরে বাংলায় মার্সিয়া সাহিত্য ও জারি গানের বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে মহররম মাসে কারবালার ঐতিহাসিক ও বিয়োগান্তক কাহিনীকে কেন্দ্র করে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে এই গানের উৎপত্তি ও বিস্তার লাভ করে। পরবর্তীতে পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১৯৬৮ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘জারীগান’ গ্রন্থে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই লোকসংগীতের সংকলন প্রকাশ করেন।

এই লেখক সম্পর্কে কোনো বিবরণ নেই।

সকল নিবন্ধ দেখুন →

সম্পর্কিত সংবাদ